‘বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে’

রাজনীতি

বাজেটে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাজেটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সাধারণ করদাতারাই ঋণ শোধ ও উন্নয়নের মূল উৎস হিসেবে কাজ করছেন। বারবার বলা হলেও আয়কর এখনো কর আদায়ের প্রধান উৎস নয়। মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমেই ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে। এই আয়-নিরপেক্ষ পরোক্ষ করের বোঝা পুরোটাই সাধারণ জনগণের কাঁধে চেপে বসে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর করের ভার বর্তাচ্ছে। বিপরীত দিকে উচ্চবিত্তদের কর পরিহার ও ফাঁকি দেওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে! এরপরেও এবারের বাজেটে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাজেটে মৌলিক সমস্যা সমাধানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যেখানে একটি অনির্বাচিত সরকার বাজেট দিচ্ছে, জবরদস্তি করে দেশ পরিচালনা করছে। সরকার যেহেতু অনির্বাচিত, তাই এ সরকারের জনগণের কাছে কোন জবাবদিহিতা নেই। আর সে কারণেই কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকার বাজেট প্রণয়নে নীতি গর্হিতভাবে অরাজকতার আশ্রয় নিয়েছে।

বাজেটের আকার কত বড় এ নিয়ে আর জনমনে কোন উচ্ছাস নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেক বছর বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাট-ছাঁট করা হয় তাতে বিরাটাকার বাজেটের অন্তসার শূন্যতাই প্রকাশ পায়। চলতি বছর বাজেটের আকার ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।