পেশায় উজ্জল, রাজনীতিতে ব্যর্থ

রাজনীতি

রাজনীতিতে মেধার অভাব তাদের কম ছিল না। কিন্তু তারপরও সফল হতে পারলেন না তারা। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে প্রয়োজন হবে গবেষণার। অনেকেই মনে করেন, রাজনীতিতে যদি তারা সফল হতেন, তাহলে দেশ এবং দলের জন্য তারা অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে এমন কয়েকজন আছেন যারা পেশাগত জীবনে সফল হলেও রাজনীতিতে এসে সফল হতে পারেননি। বরং ব্যার্থতার গ্লানিং মাথায় নিয়েই রাজনীতি থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। এরকম কয়েকজনকে নিয়েই আমাদের এই প্রতিবেদন:

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম: তাজউদ্দীন আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। জাতির পিতার মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন। ৭২-এর সংবিধানের অন্যতম প্রণেতাও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি সফল হতে পারেননি। তার নির্বাচনী এলাকা ছিল কুষ্টিয়া। সেখানে তিনি কয়েকদফা পরাজিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে তার একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে অজানা কারণে সেই ঘনিষ্ঠতায় চিড় ধরে। এখন রাজনীতিতে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম নেই বললেই চলে। আইনজীবি হিসেবে তিনি একজন সফল এবং ব্যস্ত আইনজীবি। কিন্তু তার পেশাগত জীবনে যে সফলতা, সেই সফলতা তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখাতে পারেননি। তার এই ব্যর্থতার কারণ কি এনিয়ে নানা রকম মত থাকলেও বাস্তবতা হলো তিনি এখন নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক: আওয়ামী লীগের টিকিটে ২০০৯ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিল ডা. আ ফ ম রুহুল হক। এখনো তিনি এমপি হিসেবে রয়েছেন এবং সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান। কিন্তু এক মেয়াদে মন্ত্রী হয়ে তিনি সুনামের চেয়ে বদনামই কুড়িয়েছেন বেশি। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিকিৎসক হলেও রাজনীতিতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বরং অনেক দুর্নাম এবং গ্লানি বহন করে নিজেকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এখন তিনি সংসদীয় রাজনীতির বাইরে দলীয় রাজনীতিতে তেমন উজ্জল নন। পেশাগত জীবনে সফল হলেও রাজনীতিতে তিনি কেন সফল হতে পারেননি, সেটাও এক গবেষণার বিষয়।

ব্যারিস্টার রোকনউদ্দীন মাহমুদ: ব্যারিস্টার রোকনউদ্দীন মাহমুদের রাজনীতিতে আসাটা ছিল একটা বড় চমক। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতি নির্ধারকে পরিনত হয়েছিলেন। ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনারও। কিন্তু নক্ষত্রের পতনের মতো ওয়ান ইলেভেনে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও লন্ডভন্ড হয়ে যায়। পেশাগত জীবনে উজ্জল তারকা ব্যারিস্টার রোকনউদ্দীন মাহমুদ রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর আগেই তার রাজনৈতিক জীবনের মৃত্যু ঘটেছে। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক দুরদৃষ্টিতার অভাবের কারণেই তিনি রাজনীতির মূল অঙ্গন থেকে ছিটকে পড়েছেন।

ড. রিয়াজ রহমান: একজন সফল ক্যারিয়ার ডিপ্লোমেট তিনি। পেশাগত জীবনে অবসর নিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপির সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারে তিনি যতটা সফল, ততটাই তিনি অনুজ্জল রাজনৈতিক জীবনে। এখন তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রায় গুটিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। রিয়াজ রহমানের মতো পেশাদার ডিপ্লোম্যাটিকে কেন রাজনীতিতে ব্যার্থ হলেন সেও এক বড় প্রশ্ন।

লে. জে (অব: ) মাহবুবুর রহমান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রায় নিস্ক্রিয় রেখেছেন। সাবেক এই সেনাপ্রধান ক্যারিয়ারে একজন ক্লিন ইমেজের সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র তিনি। মানুষ হিসেবেও প্রশংসিত তিনি। কিন্তু ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বিএনপিতে তিনি কখনোই উজ্জল মর্যাদার আসন পাননি। ধারণা করা হয়, সজ্জন এই ব্যক্তিটিকে মূল্যায়ন করার মতো ব্যক্তিত্ব বিএনপিতে ছিল না বলেই তিনি রাজনীতি থেকে এক হতাশা নিয়ে প্রায় নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

এরকম আরো অনেক ব্যক্তিত্ব আছেন, যারা পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল ও উজ্জল তারকা হলেও রাজনীতিতে আলো ছড়াতে পারেননি। রাজনীতি এবং পেশপাত জীবন যে দুটি ভিন্ন বিষয়, এই ঘটনাগুলো তারই এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।